ভাষা দিবস এবং বর্তমান সমাজে কুভাষার প্রয়োগ ও শিশু-কিশোর মননে তার প্রভাব

বাংলা ভাষার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভাষা সৈনিকেরা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শিশু-কিশোরদের জন্য মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মাতৃভাষার সঠিক চর্চা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভাষা একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা মানুষের চিন্তা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে। তবে বর্তমান সময়ে আমাদের মাতৃভাষা... বাংলা ভাষার প্রতি কিছু উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে, যা ভাষার ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

এর সাথে বলতে হয়, বর্তমান সমাজে কুভাষার (অশালীন, অবমাননাকর বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা) ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, ‘গেমস’ এমনকি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম প্রভৃতির মাধ্যমে ভাষার ব্যবহার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, গান ইত্যাদি এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কথাবার্তাতেও কুভাষার প্রয়োগ দেখা যায়, যা সমাজে সাধারণ হয়ে উঠছে। এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কেও কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার লক্ষণীয়, যা শিশু-কিশোরদের মননে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। এটা তাদের ভবিষ্যৎ আচরণ ও নৈতিক বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু-কিশোরদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য তাদের ভাষার ব্যবহার সংযত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুভাষার প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে আগামী প্রজন্ম সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক মূল্যবোধে গড়ে উঠতে পারে।