বসন্তের আলাপ বিলাপ
কলমে সঞ্চিতা
বসন্ত আসছে!
চমকে গিয়ে জানলা দিয়ে
ভেঙে পড়া পাঁচিলের পাশে
পলাশ গাছটাকে উঁকি মেরে
দেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে মনে।
একটা দুটো কুঁড়ি বেরিয়ে আসছে !
আমগাছে মুকুল?
দু-একটা শাখায় দেখতে পেলাম।
মনে মনে ভাবলাম!
প্রকৃতি কি কৃপণ হয়ে গেল?
নাকি আমার চোখের দৃষ্টি আবছা!
থলে হাতে বাজারে গেলাম।
সবজিওয়ালাটা এক প্যাকেট আবির
আমার থলেতে রেখে দেয়,
বলে, দাম মাত্র কুড়ি টাকা।
দুদিন বাদে হোলি, বাড়িতে দরকার!
কিন্তু কোথায় বসন্ত?
একদল ছেলে দোকানে দোকানে
তুলছে চাঁদা, সন্ধ্যেবেলা তারা
আয়োজন করেছে বসন্ত উৎসবের।
অবাক হলাম! আগ্রহী হয়ে চাইলাম
জানতে, এত টাকা কী হবে?
হাসতে হাসতে একজনের
উত্তর পেলাম,‘ডি জে হবে কাকা’!
বুঝলাম, আর সাথে খাওয়া দাওয়া।
কিন্তু, তাতে কি বসন্ত এলো?
বাজারে শোনা গেল, কাল
দোকান বন্ধ।
প্রশ্ন করলে জানা গেল, ‘কে আর
ঝামেলা সহ্য করে’ অতএব-
বিকেলবেলা পাড়ার সামনে
একটু হাঁটাচলা করতে গিয়ে,
মোড়ের মাথায় ক্লাবের সামনে
দাঁড়ালাম থমকে, দেখি,
প্যান্ডেল বাঁধার কাজ চলছে।
মনে বসন্ত উড়ু উড়ু!
তাহলে দ্বার খোলার ধ্বনি
শুনতে পাবো! বনে লেগেছে ফাগুন!
কয়েকটা শিমুল পলাশ
এখনো ফুটতে চায় হয়তো!
কিন্তু না। সন্ধ্যা হলেই, ভয়াবহ
একাধিক শব্দ যেন ত্রিলোক ভেদ করে
কানের ভিতর দিয়ে
মরমে পশিল, বলা যায়
জ্বালিয়ে দিয়ে গেল।
দেখলাম, জ্বালাময়ী বসন্তের
আতঙ্কের অনুপ্রবেশ!
মনের আনন্দ, সুরের মূর্ছনা
শাল পলাশের দোলা,
আবিরে লালে লাল হয়ে যাওয়া,
ফাগুনের রঙে আনন্দে লজ্জায়
মাখামাখি হয়ে যাওয়া
আজ যেন অস্তমিত।
আসলে আনন্দের অনুভূতি ,
প্রকাশ- বিকাশ-সুর- ধ্বনি
আজ যেন বিকৃত!
যাক! তবু তো বসন্ত এসেছে!
তবুও বাজারে আবিরের পসরা!