মহাকাশ গবেষণা

সম্প্রতি মহাকাশ গবেষণায় এ নতুন অধ্যায় রচিত হোল।  মাত্র ৮ দিনের মিশনে মহাকাশে গিয়ে আটকে পড়ে অবশেষে দীর্ঘ ২৮৬ দিন পরে ‘বাড়ি’ ফিরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সহকর্মী ব্যারি বুচ উইলমোর। ২০২৪ সালের ৫ই জুন বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে তাঁদের মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মহাকাশে তাঁদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়। দীর্গ ৯ মাস  মহাকাশে কাটানোর পর ১৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে নিরাপদে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাঁদের মহাকাশযান স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুল ফ্লোরিডা উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরে অবতরণ করে। 

দীর্ঘ মহাকাশ যাত্রার ফলে সুনীতা এবং বুচের শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে থাকার কারণে তাঁদের পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব কমে গেছে, যা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে পুনরায় মানিয়ে নিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে তাঁদের ৪৫ দিনের পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্যে রাখা হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ব্যায়াম ও কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ​

সুনীতা উইলিয়ামসের এই সফল প্রত্যাবর্তন মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

মহাকাশ গবেষণা বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যা মহাবিশ্বের গঠন, গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি এবং মহাজাগতিক ঘটনাগুলো বোঝার জন্য পরিচালিত হয়। এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা মহাকাশের অজানা রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হচ্ছি, যা প্রযুক্তি ও মানব সভ্যতার উন্নতির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মহাকাশ গবেষণার সূচনা ঘটে ১৯৫৭ সালে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন “স্পুটনিক-১” নামক প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করে। এরপর ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে প্রথম পা রাখেন।

বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু সংস্থা মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হল:

নাসা (NASA) - যুক্তরাষ্ট্র, রসকসমস (Roscosmos) - রাশিয়া, 

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ESA) - ইউরোপ, চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CNSA) - চীন, ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) - ভারত।

“স্পুটনিক-১” প্রেরণের পর থেকে ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশ ভ্রমণ, চাঁদে মানুষের পদার্পণ সহ  আজ পর্যন্ত বেশ কিছু

বৃহৎ মহাকাশ মিশন সংগঠিত হয়েছে ও সাফল্য লাভও করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোল — মঙ্গল গবেষণা: ২০২১ সালে নাসার “পারসিভিয়ারেন্স” রোভার মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করেছে। এছাড়া, ভারতের “মঙ্গলযান” প্রকল্প সফলভাবে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে।

চাঁদে অভিযান: ২০২৩ সালে ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS): এটি একটি কক্ষপথ গবেষণাগার যেখানে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরে গবেষণা পরিচালনা করেন।

আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার জন্য বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে, যেমন: মানুষের মঙ্গল অভিযাত্রা (NASA এবং SpaceX এর পরিকল্পনায় রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো), চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, নতুন গ্রহ ও উপগ্রহে জীবন অনুসন্ধান।

মহাকাশ গবেষণা কেবল বিজ্ঞানীদের কাজ নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, নতুন প্রযুক্তির দ্বার উন্মোচন করতে পারে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।