পাষাণ কারা
অমিতাভ শঙ্কর রায় চৌধুরী
(উত্তরকাশীর সিল্কয়ারাতে হিমালয়ের বুকে সুরঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে পাহাড়ের ধ্বস নেমে একচল্লিশ জন শ্রমিক সেখানে আটকা পড়ে থাকেন। অবশেষে সতেরো দিন পর র্যাট হোল মাইনার্সদের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়। ভারতবর্ষে সড়ক বা বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণের সময় যে সমস্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ও তা থেকে মানুষদের রক্ষা করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।)
হিমালয়ের পাষাণ বুকে আনতে নতুন আলো
সুরঙ্গ পথ গড়তে সেথায় কতই শ্রমিক গ্যালো।
ঠিক দেওয়ালির রাতে হলো ভীষণ বিপর্যয়
কিন্তু এমন বুকের পাটা কেউ পেলো না ভয়।
পাহাড় ভেঙ্গে পাষাণ কারায় বন্দী হল তারা
মুক্ত তাদের করতে কত লোকেই দিল সাড়া।
কিন্তু আবার ড্রিল মেশিনের আটকে গেল পাখা
বড়ই কঠিন ঝড়ের মুখে প্রদীপ জ্বেলে রাখা।
ভয়ে ভাবনায় আকুল ব্যাকুল তাদের বাড়ির লোকে
হাতের রুটি যায় না মুখে, ঘুম আসেনা চোখে।
খনির ভেতর ছোট গর্তে ঢুকতে পারে যারা—
বললো সে ‘র্যাট মাইনারেরা’, ‘আসছি রে ভাই, দাঁড়া!’
উবু হয়ে কিম্বা শুয়ে নিজের দু’ হাত দিয়ে
পাষাণ কারা ভেঙ্গে ওদের ফিরিয়ে এলো নিয়ে।
ক্যাট মানে তো ইঁদুর বটে, কিন্তু সিংহ ওরা
ভারত জুড়ে ছুটছে ওদের দিগ্বিজয়ের ঘোড়া।
তুষার মুকুট মাথায় পরে আছেন হিমালয়
তার বুকেতে আঘাত করে আনছি ডেকে লয়।
মেশিন থেকে মানুষ বড় সেই কথাটাই সত্যি
মনটা যদি হিমালয় হয়, ভয় আসে এক রত্তি?