আমরা জানি দীর্ঘ দুশ বছর বিভিন্ন ধারার সংগ্রাম এবং হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ, শত শত শহিদের আত্মাহুতির মধ্য দিয়েই অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এবছর ১৫ আগষ্ট আমাদের স্বাধীনতা গৌরবময় ৭৮তম বর্ষে পা রাখবে। ১৯৪৭ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটির মত আর আমাদের দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৪৪ কোটির উপর। স্বাধীনতার পর আমাদের পথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঠিক রূপায়ণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
আজ ভারত সেই অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর ভর করে অনুন্নত দেশ থেকে অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। আজ ভারত আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উন্নত দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারত আজ অন্যতম প্রথম সারির দেশের পর্যায়ে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে। এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং পৃথিবীর মধ্যে প্রথম পনের জন ধনী ব্যাক্তির মধ্যে ভারতের একজন উদ্যোগপতি রয়েছেন। সংবাদে প্রকাশ তাঁর ছেলের বিয়েতে খরচ হয়েছে ৫০০০ কোটি টাকা। এগুলি নিশ্চয়ই ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক দিক। এই আলোর নীচে আবার মানব উন্নয়ন এর মাপ কাঠিতে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাসস্থান, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান প্রভৃতির সূচকে ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে। বিগত পাঁচ দশকে ভারতের যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধনী দরিদ্রের মধ্যে আয়ের বৈষম্য আকাশ চুম্বী হয়ে উঠেছে। এ যেন রবীন্দ্রনাথের সেই কথা প্রদীপের নীচে ঘন অন্ধকার।
স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পর স্বাধীন ভারতের এই অবস্থা হবে এটা কি স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ভেবেছিলেন ?
এর সঙ্গেই আজ সারা দেশে আমাদের সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক সুরক্ষাগুলি বিভিন্নভাবে আক্রান্ত।
এই সব সত্ত্বেও আমাদের বিশ্বাস ভারতের মানুষ তাদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসরে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই ভারতের আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুখী উন্নত ভারত গড়ে তোলার সংগ্রাম ব্রতী থাকবেন। ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লভে।