সারিষ্কাতে ষড়যন্ত্র
ডাঃ অমিতাভ শঙ্কর রায় চৌধুরী
(শ্রদ্ধার্ঘঃ ছেলেবেলায় যার হাত ধরে আমরা প্রথম ডিটেকটিভ গল্পের গা ছম ছম রহস্য জগতে প্রবেশ করেছিলাম দীপক চ্যাটার্জী ও তার সহযোগী রতনলালের স্রষ্টা সেই স্বপনকুমার ওরফে ভৃগু (এই ছদ্মনামে তিনি জ্যোতিষ শাস্ত্রের ওপরেও বহু বেস্ট সেলার লিখেছেন। ওরফে ডাঃ এস এন পাণ্ডে (এই নামে মেডিক্যালের নানা বই লিখেছিলেন) অর্থাৎ ডাঃ সমরেন্দ্র নাথ পাণ্ডের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। যদিও আজো তাঁর বই নানা জায়গা থেকে নানা কলেবরে প্রকাশিত হয়ে চলেছে তবু ঐ দুই বন্ধুকে নিয়ে লেখা ‘অদৃশ্য সংকেত’ দিয়ে যার সাহিত্য যাত্রার শুরু, দুঃখের কথা যে তিনি সাহিত্য জগতে সম্মানের আসন থেকে চিরদিন যেন অদৃশ্যই থেকে গেলেন)
রাজস্থানের সারিস্কা জঙ্গলের বিখ্যাত ডিটেকটিভ শার্লক ঘেউ ঘেউ সাত সকালে নিজের বাড়িতে বসে বসে আলুর পরোটা দিয়ে জল খাবার সেরে নিচ্ছিল। পাশেই বসে ছিল তার সহকর্মী ডাঃ ওয়াটসান ম্যাঁও। তার হাতেও গরম পরোটার প্লেট। পরোটায় একটা কামড় দিয়ে ধনে পাতার চাটনিটা মুখে দিতেই বিল্লা ওয়াটসান ‘উহু উহু! কি ঝাল রে বাবা!’ বলে উঠল, ‘কেন যে এত ঝাল দেয়?’
শার্লক ঘেউ ঘেউ মুচকি হেসে বলল, ‘রাজস্থানে লোকে আস্ত ঝাল মির্চি বড়া খেয়ে নেয় আর তুমি তুচ্ছ একটু চাটনি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছ বন্ধু?’ একটু বাদেই তাদের বাসায় যে কাজ করে সেই খরগোশীলাল টেবিলের ওপর ‘ধূমায়িত’ কফির কাপ নামিয়ে দিয়ে নিজের লম্বা কান দুটো নাড়তে নাড়তে বলে গেল, ‘গরম গরম কফি তে চুমুক দিন স্যার।’ কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে শার্লক নিজের লেজ নাড়তে নাড়তে উদাস চোখে জঙ্গলের দিকে চেয়ে রইল। ম্যাও হাতে তুলে নিল কফির মাগ। তার চোখ দি জাঙ্গল টাইমসের পাতায়।
এমন সময়ে সিঁড়িতে ধুপ ধাপ করে একটা শব্দ হতে লাগল। শার্লক তার মুখ না ফিরিয়েই বলল, ‘যিনি সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠছেন তার প্রতিটি পদক্ষেপই জানিয়ে দিচ্ছে তাঁর গুরুভার পরিচয়। আমার অনুমান যদি ভুল না হয় তাহলে আরণ্যক মিউজিয়ামের ডাইরেক্টার মিস্টার দীর্ঘরোমা ভাল্লুক এখুনি এ ঘরে এসে প্রবেশ করবেন।’
বলতে বলতেই হাঁপাতে হাঁপাতে দীর্ঘরোমা এসে ঢুকলেন। তিনি তখন বেশ উত্তেজিত। কোন দিকে না তাকিয়েই ঘোঁত ঘোঁত করে বলে উঠলেন, ‘মিঃ শার্লক, আমার মাথার ওপর এখন সমূহ বিপদ আর তুমি বসে বসে কফি খাচ্ছ? আমার সারা জীবনের সমস্ত সুনাম যে ডুবতে বসেছে। আমায় উদ্ধার কর ভাই।’
‘আরে মশাই হয়েছেটা কি আগে সেটা তো বলবেন। একটু শান্ত হয়ে ঐ সোফাটায় বসুন তো আগে।’
ওয়াটসান বললে, ‘তার আগে বরং তুমি বলো যে তুমি কি করে বুঝলে যে মিস্টার দীর্ঘরোমাই আসছেন? অন্য কেউও তো হতে পারত?’
‘ইট ইজ এলিমেন্টারি বন্ধু। ইনি যখন জংলের পথে আসছিলেন তখন একটা আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ওপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেই গাছে একটা বড় মৌচাক ঝুলছে। এনাকে দেখেই মৌমাছিগুলো তেড়ে গেছিল। আমি স্বচক্ষে দেখলাম। অতএব-’
‘আরে রাখ’ তোমার অনুমান বিজ্ঞান। আগে আমার কেসটা সল্ভ করে আমাকে রক্ষা করো।’ দীর্ঘরোমা ছটফট করে উঠলেন, ‘জানো, কাল আরণ্যক মিউজিয়াম থেকে সিল্ক রুটের বহুমূল্য বহু প্রাচীন একটা ম্যাপ চুরি গেছে? আজ সকালে মিউজিয়াম খোলা হতে আমরা টের পেলুম।’
‘সিল্ক রুট? ঐ যেটা চীন থেকে তুরস্ক পর্যন্ত যায়? ইদানিং তো চীন আবার সেখানে নতুনকরে কি সব করছে।’
‘হ্যাঁ, সেই ৬৫০০ কিমি লম্বা প্রাচীন সড়ক। যা এখন বহু জায়গাতেই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ আর বিশেষ ও পথে যাওয়া আসাও করে না। পথে যে সমস্ত পাহাড় নদী জঙ্গল ইত্যাদি পড়ত সে সব আঁকা আছে ঐ ম্যাপে।
শুধু কি তাই? পথের সরাই, বাজার ইত্যাদিরও উল্লেখ রয়েছে তাতে। যাত্রীরা সেখানে আশ্রয় নিয়ে শুধু যে খাবার পেত তাই নয়, তারা পথে খাবার জলটাও সংগ্রহ করে নিত। চীনে সওদাগরেরা এ পথেই পশ্চিমে সিল্কের রপ্তানি করত তাই জার্মান ভূপর্যটক ফারদিনান্দ ভন রিখটোফেন এই সড়কটার নাম দেন সিল্ক রুট।’
শার্লক নিজের আরাম কেদারা ছেড়ে এবার উঠে দাঁড়াল। জ্বলন্ত সিগার পাইপটা দাঁতের মধ্যে চেপে ঘরের ভেতর পায়চারি আরম্ভ করলো।
ওয়াটসান জানে সে এখন চিন্তা করছে। তাই আর কোন সওয়াল করলো না। কিন্তু প্রোফেসার দীর্ঘরোমা অস্থির হয়ে উঠলেন, ‘ওহ, এই এক ঢঙ। ভাবনা চিন্তার নেইকো শেষ/চিন্তা মণি আছেন বেশ!’
হঠাৎ থেমে গিয়ে শার্লক জিজ্ঞেস করলো, ‘গত কয়েক দিনের মধ্যে এমন কেউ কি আপনাদের মিউজিয়ামে এসেছিল যাকে আপনি সন্দেহ করতে পারেন?’
‘সন্দেহ কাকে করব? যার চুরি যায় তার চোখে তো বিশ্ব সংসারের সব্বাই চোর। কাল তেমন কেউ এসেছে বলে তো মনে পড়ছে না। তবে পাঁচ দিন আগে উজবেকিস্তান থেকে কয়েক জন বিদেশী এসেছিল। তারা বহুক্ষণ ঐ ম্যাপটা যেখানে রাখা আছে সেই শো কেসের কাছে দাঁড়িয়েছিল।’
“তাদের সাথে আপনার কোন কথা হয়েছিল?’
‘কথা? তা একটু হয়েছিল বইকি। তাদের মধ্যে থেকে একজন আমার চেম্বারে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘ঐ ম্যাপটার মত সিল্ক রুটের আর কোন ম্যাপ কোথাও পাওয়া যেতে পারে কিনা। তা, আমি বললাম এগুলো প্রায় হাজার বারোশো বছর আগেকার জিনিস। আর কি কোথাও পাওয়া যাবে?’
শার্লক গম্ভীর মুখে শুধু বলল, ‘হুঁ।’
দীর্ঘরোমা বলল, ‘যাবার সময় আমাকে বলে গেল উজবেকিস্তানের সমরকন্দে একটা নতুন মিউজিয়াম হচ্ছে। তাই ওরা যে কোন মূল্যে ঐ রকম একটা ম্যাপ কিনতে প্রস্তুত। জানোই তো ঐ সিল্ক রুট চীনের জিয়ান আর কাশগর শহর থেকে শুরু হয়ে সমরকন্দ আর বুখারা হয়ে সেই তুরস্কের সবুজ নগরী বরসা পর্যন্ত গেছে?’
চুপ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শার্লক কিছু যেন ভাবছিল। হঠাৎ সে যেন চাঙ্গা হয়ে উঠল। বললো, ‘আর দেরি করে কি হবে? চলুন, একবার অকুস্থলে যাওয়া যাক।’
‘সে আর বলতে? যখন ডাকেন রাধা/চাইনে আমার সাধা।’ সম্ভব হলে দীর্ঘরোমা যেন জানলা দিয়ে লাফ মেরে বনের পথে হাঁটতে শুরু করবেন।
মিউজিয়ামে পৌঁছে শার্লক আর ওয়াটসান সেই শো কেসটার কাছে দাঁড়িয়ে পড়ল।
পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘরোমা নিজের লেকচার চালিয়ে যেতে লাগলেন, ‘চীনের হান রাজাদের যুগে রাজ কর্মচারী ঝ্যাং কিওয়ান এই সড়ক নির্মাণের কাজে হাত লাগান। উদ্দেশ্য ছিল যে ভারত হয়ে সুদূর আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক বা রোম পর্যন্ত যেন তারা বাণিজ্য ইত্যাদি করতে পারে। তাং রাজাদের শাসনের সময় ছিল এর খুব রমরমা। মানে, ১৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ পর্যন্ত। চীনের সওদাগররা উট আর ঘোড়ার পিঠে বোঝাই করে নিয়ে যেত সেখানকার রেশম, চা, চীনে মাটির বাসন, আদা আর উল। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখানকার মশলা, গোলমরিচ, হাতির দাঁতের মূর্তি ও অন্যান্য শৌখিন জিনিস, দামি পাথর আর পেস্তা নিয়ে যেত পশ্চিমের দেশগুলোতে। রোম থেকে এদিকে আসত সোনা, রূপো, কাঁচ, মদ বা কার্পেট। শুধু যে জিনিস পত্রের আদান প্রদান হ’ত, তাই নয়। এ পথ দিয়েই আফগানিস্তান অব্দি গেছে বৌদ্ধ দর্শন এবং বীজগণিত আর ওদিক থেকে এসেছে গ্রীক রোমান শিল্প কলা আর দর্শন।’
ওয়াটসান ম্যাঁও করল, ‘চোর শো কেসের তালা ভেঙে কাজটা করেছে। কিন্তু ভেতরে ঢুকল কি করে? দিনের আলোতে সকলের চোখের সামনে নিশ্চই এ কাজ করেনি।’
‘ঠিক তাই। তাহলে একটাই রাস্তা খোলা থাকে। মিউজিয়াম বন্ধ হবার পর সে এখানে এসে ঢুকেছে। এবং সুবিধে মত রাত্রে আরামসে।’
‘এও তো হতে পারে যে সে পরশু সকলের সঙ্গে এসে এখানে ঢুকেছিল এবং সারা রাত কোথাও লুকিয়ে ছিল। কাল যখন সে মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে গেছে তখন তো আর কারো সন্দেহ হবার কথা নয়।’ ওয়াটসন একটা সম্ভাবনার কথা জানায়।
বন্ধুর হাত ধরে শার্লক একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, ‘না ওয়াটসন, এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে তোমার বুদ্ধিটাও বেশ শার্প হয়ে উঠেছে।’ বলতে বলতেই সে ঝুঁকে ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা পকেট থেকে বের করে মিউজিয়ামের মেঝেটা পরীক্ষা করে দেখতে লাগলো। তারপরেই কোটের পকেট থেকে একটা ফোরসেপ বের করে মেঝে থেকে একটু মাটি আর একটা চুল তুলে কাগজে মুড়ে পকেটে রাখলো। আর তারপরেই সে সমস্ত জায়গাটা তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগল।
‘এই মাটি আর চুল দিয়ে কি করবেন মশাই?’ দীর্ঘরোমা যেন অস্থির হয়ে পড়ছেন।
‘প্রোফেসার, সারিস্কা জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গার মাটির রং এবং প্রকৃতি সম্বন্ধে আমার একটা ছোট্ট বই আছে সেটা পড়লেই বুঝতে পারতেন যে কারো পায়ে লেগে থাকা মাটি দেখেই আমি বলতে পারি যে আগন্তুক কোন পাড়া থেকে এসেছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর লেজের চুল নিয়েও আমার একটা পেপার ‘দি গ্রীন জাঙ্গল’ পত্রিকায় বেরিয়েছে। ঐ চুল দেখেই আমি জন্তুটাকে চিনতে পারি।’
মিউজিয়ামের এক পাশে একটা বিশাল ডাইনোসরের মডেল রাখা ছিল। হঠাৎ তার পেটের নিচে ঝুঁকে পড়েই শার্লক বলে উঠল, ‘এই তো। এটাই তো খুঁজছিলাম। তোমার আন্দাজটাই সঠিক ওয়াটসন। চোর কাল আর চারজনের মতই মিউজিয়াম বন্ধ হবার আগেই এখানে এসে ঢোকে। তারপর কোথাও লুকিয়েছিল। খুব সম্ভব ঐ ওয়াশরুমে।’ বলতে বলতেই সে ছুটে গিয়ে ঢুকল বাথরুমে।
সেখানে বেসিনের নিচেই পড়ে ছিল একটা সেলাই করার ছুঁচ আর তার পাশেই গড়াগড়ি দিচ্ছিল একটা সুতোর রিল। সে দুটো জিনিস হাতে তুলে নিয়ে শার্লক মিনিট খানেক কি যেন ভাবল, ‘বুঝেছি। ব্যাটা নিশ্চই কোট পড়ে এসেছিল। তাই কোটের ভেতরের সেলাই খুলে সে তার মধ্যে ম্যাপটা নিয়ে সকাল বেলায় বেরিয়ে যায়। কে আর সন্দেহ করবে? মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে যাবার পর সে সুযোগ মত ঐ শো’কেসের তালা খুলে ম্যাপ বের করে নেয়। সারা রাত সে এই ডাইনোসরের পেটের নিচে শুয়েছিল। তার পর দিনের আলোয় সকলের চোখের সামনে একেবারে বুক ফুলিয়ে।’ বলতে বলতেই সে সেখান থেকেও একটু মাটি আর দু চারটি চুল তুলে নিল। তারপরেই সে দীর্ঘরোমার দিকে চেয়ে বলল, ‘স্যার, একবার আপনাদের মাইক্রোস্কোপটা ইউজ করার অনুমতি দিন।’
‘আহা, এসব ফর্ম্যালিটির কথা উঠছে কোথেকে? চলুন, আমি নিয়ে যাচ্ছি। ম্যাপটা আবার দেশের বাইরে না পাচার হয়ে যায়।’ দীর্ঘরোমা বেচারী নিতান্তই অস্থির হয়ে পড়েছেন।
‘যা আন্দাজ করেছি, ঠিক তাই।’ মাইক্রোস্কোপ থেকে চোখ তুলেই শার্লক বলল, ‘এখুনি থানায় চলুন।’
সারিস্কা থানার ওসি বাঘেন্দ্র সব শুনে তো অবাক, ‘মিঃ শার্লক, আমি আপনার একজন গুণমুগ্ধ অফিসার, কিন্তু তাবলে কারোকে এভাবে গ্রেপ্তার করা কি ঠিক? কোন প্রমাণ?’
‘আর দেরী করবেন না অফিসার। ম্যাপটা অন্য কারো হাতে পৌঁছে গেলে তা উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে যাবে। তার ওপর এটা আবার ফরেন মিনিস্ট্রির ব্যাপার।’
বাঘেন্দ্র আর দেরী করা সমীচীন মনে করলেন না। পুলিসের জীপ ছুটে চলল। এসে থামল শিবা ওস্তাদ শেয়ালের বাড়ির সামনে।
পুলিসের লোকজন দেখেই তো শিবা অবাক। লেজ নাড়তে নাড়তে বলল, ‘কি ব্যাপার স্যার? আপনারা এই অধমের বাসায়?’
তৎক্ষণাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে শার্লক তার লেজ থেকে একটা চুল ছিঁড়ে নিয়ে ম্যাগ্নিফাইং গ্লাস দিয়ে তা পরীক্ষা করতে লাগলো। শিবা আঁতকে উঠে চীৎকার করে উঠল, ‘উরে বাবা! এ কিন্তু আপনাদের ভারী অন্যায়। এ তো পুলিশের জুলুম।’
চুলটা একবার দেখে নিয়েই শার্লক বাঘেন্দ্রকে বলল, ‘অফিসার, আমার হাতে প্রমাণ এসে গেছে। লেজের এই চুল আর মিউজিয়ামে পাওয়া চুল একই জনার।’
এ কথা কানে যেতেই শিবা ওস্তাদ লাফ দিয়ে ছুটে পালাল। বাঘেন্দ্র গর্জে উঠল, ‘সেপাইলোগ পাকড়ো উসকো।’
দুটো হনুমান জীপ থেকে নেমে এক লাফে তাকে ধরে ফেলল। শার্লক ম্যাওকে বলল, ‘শিবার ঘরটা সার্চ করে দেখতো ম্যাপটা খুঁজে পাও কিনা।’
ওয়াটসন যেই শিবার বাসায় গিয়ে ঢুকল অমনি একটা সমরকন্দের নেকড়ে দাঁত বের করে বাইরে বেরিয়ে এসে ছুট দিল। কিন্তু পালিয়ে যাবে কোথায়?
বাঘেন্দ্র এক লাফে তাকে ধরে এমন থাবা দিয়ে মারল যে সে নিজের ভাষায় বোধহয় ‘ওরে বাবারে! ও মাগো!’ বলেই কুপোকাত। তার হাতের ব্রিফকেসটা ছিটকে পড়ল মাটিতে। ওয়াটসন ঝাঁপ দিয়ে সেটি তুলে নিয়ে খুলে ফেলল। আর তার মধ্যে থেকেই বেরিয়ে পড়ল সেই ম্যাপ। অদ্ভুত সুন্দর ক্যালিগ্রাফির কাজ করা সিল্ক রুটের এক প্রাচীন ম্যাপ।’
শার্লক বলল, ‘দেখছেন, এ ব্যাটা ঐ সিল্ক রুটের ম্যাপটা নেবার জন্যেই বসেছিল। কি রে শিবা, কত টাকায় দেশের জিনিস এর হাতে তুলে দিচ্ছিলি?’ শিবা মাথা নিচু করে বসে রইল। শার্লক বাঘেন্দ্রকে বলল, ‘নিন অফিসার, আমার কাজ শেষ, এবার নাটকের যবনিকা পতনের দায়িত্বটা আপনাদের।’
প্রোফেসার যেন নাচতে নাচতে এসে তাকে বুকের মধ্যে জাপটে ধরলেন, ‘তুমি আমাদের সারিস্কার সম্মান রক্ষা করলে শার্লক। আজ বিকেলে মিঃ ওয়াটসন কে নিয়ে আমার বাসায় অবশ্যই এসো। তোমাদের দুজনকে পেট ভরে মধু খাওয়াবো।’
ইন্সপেক্টার বাঘেন্দ্র বড় বড় চোখ করে মুচকি হেসে হালুম করে উঠল, ‘আর আমি? আমি বুঝি বাদ পড়লাম?’