আগমনি
শ্যামাচরণ কর্মকার
বৃষ্টি মুছে শরৎ এল ছড়িয়ে দিল খুশির হাওয়া
বলল এসে, এলাম খুকু, দিন নেই আর বৃষ্টিছাওয়া।
চোখ মেলে দেখ দূর আকাশে সোনারোদের উল্কি আঁকা
শরৎ শরৎ গন্ধ খুঁজিস তাই কি সাজে দূরেই থাকা?
তুলতুলে মেঘ পাল তুলেছে পানসি হয়ে আকাশগাঙে
শরৎ আসার গন্ধ পেয়েই কাশফুলেদের ঘুমটা ভাঙে।
হিমেল হাওয়া স্থির থাকে আর? মন চঞ্চল, ছুটতে থাকে
শরৎ এসে দেয় দুলিয়ে সবাই খুশির পরশ মাখে।
শিউলি কুঁড়ি চোখ খুলেছে, দিচ্ছে উঁকি পদ্মকুঁড়ি
ভোমরা বলে, মৌমাছি আয়, ফুলের বনে একটু ঘুরি।
শরৎ এলে চুপ থাকা যায়? মনে কেমন পুলক জাগে
আগমনি বার্তা ছড়ায় দুগ্গাপুজোর পরশ লাগে।
এদিক ওদিক ড্যাং কুড়া কুড় দুগ্গা সাজে শহর ও গাঁয়
দিগবিদিকে পুজোর খুশি দুগ্গা আসে স্বমহিমায়।
আর কি ঘরে থাকতে পারি? বেরিয়ে পড়ি মায়ের টানে
ঢাকের বাদ্যি, সানাই বাঁশি দোল দিয়ে যায় সবার প্রাণে।
পুজো পুজো গন্ধ ভাসে পথঘাট সব আলোয় আলো
থিকথিকে ভিড় মণ্ডপে আজ মায়ের হাসি মন ভরাল।
বলল খুকু দুগ্গামাকে, প্রণাম নিয়ো জগন্মাতা
তোমার ছোঁয়ায় দুঃখ ঘুচুক, কান্না মুছুক চোখের পাতা।